সাহিত্যপ্রেমী মাত্রই ঈদ সংখ্যার সঙ্গে তার শৈশবের স্মৃতি কাদার মতো মাখামাখি হয়ে থাকবে—এমনটাই আমরা ভাবি, এবং সচরাচর দেখেও থাকি। কিন্তু ব্যতিক্রম তো সর্বত্রই থাকে; আমিও সেই ব্যতিক্রমীদের একজন।
নিজেকে সাহিত্যানুরাগী বলতে ভালোবাসি, অথচ আমার শৈশবের ঈদ বলতে চোখে ভাসে শুধু নতুন জামাকাপড় আর সালামি হিসেবে পাওয়া চকচকে নোটের স্মৃতি। সেখানে ঈদ সংখ্যার কোনো স্থান ছিল না। সেই বয়সটাতে পরিবারে কিংবা আশেপাশে এমন কেউ ছিলেন না, যাকে দেখে সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ জন্মাতে পারত।
তবে জীবন ধীরে ধীরে কড়ইগাছের মতো ডালপালা মেলতে শুরু করল, আর সেই ডালে আশ্রয় নিল নানা রুচির মানুষ—যাদের মধ্যে ছিল কিছু সাহিত্যপ্রেমীও। তাদের সংস্পর্শে এসেই প্রথম সাহিত্যের স্বাদ পেলাম। ধীরে ধীরে জানতে শুরু করলাম গল্প, উপন্যাস, অনুবাদ, কবিতা—আর সেই সঙ্গে পরিচিত হলাম ঈদ সংখ্যার বিস্তৃত জগতের সঙ্গে, যেখানে এক মলাটে আবদ্ধ থাকে নানা স্বরের সাহিত্য।
একসময় যে ঈদ মানেই ছিল নতুন জামা আর সালামির হিসাব, এখন সেই হিসাবের খাতায় যুক্ত হয়েছে নতুন এক অধ্যায়। কোন প্রকাশনী কী সংখ্যা আনছে, কার লেখা ছাপা হচ্ছে, কোনটি না কিনলেই নয়—এই সব ভাবনাই এখন ঈদের আনন্দের বড় অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শৈশবে সাহিত্যের সঙ্গে পরিচয় না হওয়ার আক্ষেপ হয়তো রয়ে যাবে। কিন্তু আজ, এই বয়সে দাঁড়িয়ে যে শৈশবটুকু নতুন করে গড়ে তুলছি—ঈদসংখ্যা ঘিরে যে স্মৃতি জমাচ্ছি—তা কোনো অংশে কম নয়।
হয়তো একদিন বয়সের ভারে নত হবো, কিন্তু ফিরে তাকালে দেখবো—আমারও এক শৈশব আছে, যা তৈরি হয়েছে দেরিতে, কিন্তু গভীরভাবে; আর তার পাতায় পাতায় লেখা আছে ঈদ সংখ্যার গল্প।
অক্ষরের Instagram পেইজ ফলো করুন এখানে ![]()