আম্মা কপালে ঘাম নিয়ে রান্নাঘরে ছুটোছুটি করছে। ঈদ এর আগে আগে সবে শহরে কেবল উৎসবের আমেজ এর হাওয়া বইতে শুরু করেছে ঠিক তখনই বাড়িতে আসত সেই রঙ্গিন মলাটের ঈদ সংখ্যা গুলো আমাদের দুই-মণ ওজনের একঘেয়ে জিবনে ওই কয়েক পৃষ্ঠার ঈদ সংখ্যা দু-ছটাক নিষ্কৃতি।তখনো ডিজিটাল স্ক্রিনের নীল আলো তখন আমাদের চোখ বিঁধত না বরং কাগজের নতুন ঘ্রাণটা নাকে আসতেই শরীরের ভেতরে শীতল আলপনা আঁকা হয়ে যেত।

বাবা যখন সকালবেলা বাজার থেকে ফেরার পথে বগলদাবা করে সেই রঙিন সংখ্যাগুলো নিয়ে আসতেন, মনে হতো একটা খুব দরকারি কাগজ তিনি বেঁধে ঘরে নিয়ে এসেছেন। ঈদ সংখ্যা পড়ার প্রথম সুযোগ বাবাই পেতেন, খানিক চোখ বুলিয়ে রেখে দিতেন টেবিলের কোনে এবং তার উপর নিজের চশমা খুলে রেখে উঠে যেতেন, তখন নানু পোড়া বেগুনের মতন হাত বাড়িয়ে আলতো করে নিতেন ঈদ সংখ্যা। চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে খুব মন দিয়ে নতুন কোনো রান্নার রেসিপি খুঁজতেন। সেই রেসিপিতে আবার যোগ হতো নানু নিজের পছন্দ মতন আরও কিছু কৌশল আর পাটায় বাটা মশলা।

এরপর হাত ঘুরে আসতো আমার কাছে। “উৎসবের সাজ/ঈদের সাজগোজ”-এর চটুল পাতার পরেই থাকত সমকালীন দিকপাল লেখকদের শাণিত সব প্রবন্ধ আর সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ। বড় বড় সাহিত্যিকদের কলমে তখন উঠে আসত মধ্যবিত্ত বাঙালির দ্বিধা, বিশ্বসাহিত্যের নিগূঢ় তত্ত্ব আর সমসাময়িক রাজনীতির বৌদ্ধিক ব্যবচ্ছেদ। বলাবাহুল্য সে সব লিখার বেশিরভাগই কাগজের প্লেন মতন সাই করে উড়ে যেত মাথার একটু উপর থেকে। তবে আম্মা রান্নাঘর থেকে এসে আচল এর শেষ অংশ দিয়ে কপালের ঘাম মুছতে মুছতে খুঁজতেন হুমায়ূন আহমেদ, ইমদাদুল হক মিলন, মইনুল আহসান সাবের কিংবা আনিসুল হকের লেখা।

ঠাহর করতে পারিনা ঠিক কবে থেকে হুমায়ূন আহমেদ এর লিখা আর ঈদ সংখ্যায় দেখি না। কিংবা ঠিক কবে থেকে নানু হাত দিয়ে আর কিছুই ধরতে পারেন না।


অক্ষরের Instagram পেইজ ফলো করুন এখানে