ঈদ সংখ্যা আর শৈশবের নস্টালজিয়া
ঈদ সংখ্যা বরাবরই ঈদের আনন্দকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। ছোটবেলায় ঈদ সংখ্যার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতাম। আমার বাবার ম্যাগাজিন সংগ্রহ করার এক বিশেষ শখ ছিল। সেই কারণেই ছোট থেকেই আমাদের বাসায় অনেক ধরনের ম্যাগাজিন দেখেছি।
তখন এতটা বুঝতাম না, কী আছে এসবের ভেতরে কিংবা কীভাবে পড়তে হয়। কিন্তু বাবা যখন মন দিয়ে ম্যাগাজিন পড়তেন, আমি পাশে বসে আগ্রহ নিয়ে এর ভেতরের ছবিগুলো দেখতাম। ধীরে ধীরে, যখন দেখলাম বাবা নিয়মিত আনন্দমেলা, সানন্দা, ঈদ সংখ্যা পড়েন, তখন আমিও তার সঙ্গেই এসব ম্যাগাজিন পড়া শুরু করি।
এখনো আমাদের বাসায় সেই পুরোনো ম্যাগাজিনগুলো যত্ন করে রাখা আছে। প্রতিটি সংখ্যায় থাকত রান্নার রেসিপি, ছোট গল্প, আঁকিবুঁকি, বিভিন্ন মানুষের মতামত। এক জায়গায় এত কিছু পাওয়ার আনন্দটাই ছিল আলাদা। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই আগ্রহ আরও বেড়েছে, আর আমি নিজেও চেষ্টা করেছি ম্যাগাজিনগুলো সংগ্রহ করে রাখতে।
ঈদ সংখ্যার সবচেয়ে বিশেষ দিক হলো, এগুলো বছরে একবারই প্রকাশিত হয়। তাই সারা বছর জুড়ে একটা অপেক্ষা কাজ করত, কবে আসবে নতুন ঈদ সংখ্যা। অনেক সময় ঈদের আগে সংগ্রহ করা হয়ে উঠত না, কিন্তু ঈদের পর ঠিকই আমি বাবার সাথে বা একাই বইয়ের দোকানে গিয়ে সেগুলো কিনে আনতাম।
তারপর একেকটা গল্প, একেকটা লেখা ধীরে ধীরে মন দিয়ে পড়া, এটাই ছিল আমার কাছে এক অন্যরকম আনন্দ। যারা ঈদ সংখ্যা পড়ে না বা এ নিয়ে তেমন আগ্রহ নেই, তারা হয়তো বুঝতে পারবে না এই বইগুলোর মাধ্যমে কত কিছু জানার, অনুভব করার সুযোগ মিলত।
এখন আমি বড় হয়েছি। অনলাইনে পড়ার সুযোগও অনেক বেড়েছে। তবুও ঈদ এলেই মনে সেই পুরোনো টানটা ফিরে আসে। বড় হয়ে গেলেও, এখনো ঈদ সংখ্যা খুললেই সেই ছোটবেলার আনন্দটা ঠিকই ফিরে আসে।