ছোটবেলায় ঈদ আসলেই মা খবরের কাগজ দিয়ে যাওয়া চাচাকে জানিয়ে রাখতেন ঈদ সংখ্যা দেবার কথা ধর্ণা দিয়ে রাখতেন থানা মোড়ের বইয়ের দোকানে। দুর্গাপূজা আর ঈদকে ঘিরে বাড়িতে জমতে থাকত এই বিশেষ সব বার্ষিকী। কোনোটাতে গল্প, উপন্যাসের পাশাপাশি হাল ফ্যাশনের কথাও থাকত। ছোট বোন আর আমি মিলে সেসবের অপেক্ষায় দিন গুনতাম। পত্রিকা হাতে পেয়ে এক নিমিষে সব পাতা উল্টে-পাল্টে দেখে ফেলতাম।

তবে তাতে ছাপা সব গল্প পড়া ছিল বারণ। মা দাগিয়ে দিতেন কোন কোন গল্প আমরা পড়তে পারব আর কোনটা একদম আমাদের জন্য না। নিষিদ্ধের প্রতি আকর্ষণ প্রবল থাকা সত্ত্বেও মায়ের কথা মান্য করে শুধু তার দাগানো গল্পগুলোই আমরা পড়তাম। কত নামী লেখক সেসবে গল্প দিতেন। এক জায়গায় সব পেয়ে আমাদের আনন্দ দেখে কে!

সেসবে কখনো কখনো গয়না আর পোশাকের ছবি থাকত। হাল ফ্যাশনের খবর থাকত। আমরা ছবি দেখে কোনটা ভালো আর কোনটা একদমই নেওয়া যাচ্ছেনা তার গল্প করতাম। কখনো জামার নকশা ভালো লেগে গেলে আম্মু সেটা দর্জিকে দেখিয়ে তেমন জামা আমাদের বানিয়ে দিতেন।

নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা আমার মা কোথা থেকে এই ঈদ কিংবা পূজা সংখ্যা সংগ্রহের শখ পেয়েছিলেন জানা নেই আমার। কিন্তু মায়ের শেলফ ভর্তি উপন্যাসের পাশাপাশি ‘ছবিঅলা’ এই বার্ষিকীগুলো আমার কাছে ছিল যেন সাত রাজার ধন। আমাদের বাড়িতে উৎসবের আগমন ঘটত এই বার্ষিক পত্রিকার আগমনের মধ্য দিয়ে। কোনো কোনো বছর আম্মুর হাতে বাড়তি টাকা থাকলে দুই কি তিনটাও পত্রিকা ঢুকত ঘরে। প্রথম আলো, দেশ কিংবা আনন্দবাজারের মোটা পত্রিকাগুলো একদিকে ছিল আমার স্কুল শিক্ষিকা মায়ের শখের নাম, তেমনি আমাদের জন্য ছিল উৎসবের আগমনের বার্তা।

বড় হতে হতে মা তার অনেক শখই বিসর্জন দিয়েছেন। আজকাল মা ঈদ আসলে ঈদ সংখ্যা কিনে বাড়ি মাতিয়ে ফেলেন না। আমরাও দায় দায়িত্বের ঝামেলায় উৎসব দোঁড়গোড়ায় না আসলে টের পাইনা তার আসার কথা।


অক্ষরের Instagram পেইজ ফলো করুন এখানে