ঈদ সংখ্যা মানেই আমার কাছে এক অন্যরকম আবেগ, এক টুকরো নস্টালজিয়া। পাঠক হিসেবে ঈদের নতুন জামার মতো একটা হলেও ঈদ সংখ্যা চাই। বাসায় যখন রঙিন প্রচ্ছদের সেই সংখ্যাগুলো আসত, তখন সে কি আনন্দ। গল্প, উপন্যাস, ভ্রমণকাহিনি, আর প্রিয় লেখকদের নতুন লেখা—সব মিলিয়ে ঈদ সংখ্যাগুলো ছিল আমার ঈদের অবসরের সেরা সঙ্গী।

ঈদের সময়টাই পাঠ্যপুস্তকের ধারের কাছে না থাকলেও ঠিকই ঈদ সংখ্যা পড়তেই হবে। সারাদিন হইচই করে, ঘুরাঘুরি করে ক্লান্ত হয়েও রাতের নীরবতা মলাট বন্দি ঈদ সংখ্যা পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে যেতাম। সেই একেকটা গল্প আমাকে নিয়ে যেত একেকটা ভিন্ন জগতে। কিছু গল্পে নিজেকে খুঁজে পেতাম, কিছু গল্পে হারিয়ে যেতাম। বিশেষ করে প্রিয় লেখকের লেখা খুঁজে পাওয়া আর সেটি পড়ে ফেলা—এই আনন্দটা ছিল একেবারেই অন্যরকম ছিল। আবেগময় স্মৃতি। এখন বড় হয়ে গেয়েছি। নিজের ইচ্ছেমতো ঈদসংখ্যা সংগ্রহ করতে পারি কিন্তু ছোটবেলায় বাবার এনে দেওয়া ঈদ সংখ্যার আনন্দ ছিল অন্যরকম। আবার বন্ধুদের সঙ্গে ঈদ শেষে কার কোন গল্পগুলো ভালো লেগেছে এসব নিয়ে আলোচনা করা হতো। তখন বুঝিনি, কিন্তু এখন মনে হয় এই ঈদ সংখ্যাগুলো বা এই ছোট ছোট আলোচনা গুলো আমাদের পাঠাভ্যাস, ভাবনার জগৎ আর অনুভবের পরিসর তৈরি করতে সাহায্য করেছে।

সময় এগিয়েছে, এখন পড়ার মাধ্যম বদলেছে, কিন্তু ঈদ সংখ্যার প্রতি টান একটুও কমেনি। এখনও যখন নতুন সংখ্যা দেখি, মনে হয় ছোটবেলার সেই উচ্ছ্বাসটা আবার ফিরে এসেছে। একজন পাঠক হিসেবে ও বুক নিয়ে কাজ করতে যেয়ে আমার মনে হয়, এই সংখ্যাগুলো শুধু বিনোদন দেয় না বরং পাঠকের ভেতরে সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করে, নতুন চিন্তার দুয়ার খুলে দেয়। ঈদ সংখ্যা আসলে এক ধরনের অনুভূতি যা কাগজের পৃষ্ঠায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং আমাদের স্মৃতি, অভ্যাস আর ভালোবাসার গভীরে বেঁচে থাকে।


অক্ষরের Instagram পেইজ ফলো করুন এখানে