আমার শৈশবের স্মৃতিতে ঈদ সংখ্যার চেয়েও বেশি জড়িয়ে আছে পূজাবার্ষিকীর স্মৃতি। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সত্যজিৎ রায়, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, আমার শৈশবের সবচেয়ে প্রিয় লেখক ছিলেন। খুব সম্ভবত সে জন্যেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতাম পূজাবার্ষিকীর জন্য। দুই মলাটের ভেতর অনেক অনেক উপন্যাস, গল্প, আর হরেক রকম লেখাপত্র একসাথে থাকে সেই অভিজ্ঞতা প্রথম পাই পূজাবার্ষিকীগুলো থেকেই। সবচেয়ে বেশি প্রিয় ছিল আনন্দমেলা। পরবর্তীতে এরই ধারাবাহিকতায় ঈদসংখ্যাগুলর সাথে পরিচয় এবং সখ্যতা।

ইদানীং প্রচুর বইপত্র কেনা হয়। বিশেষত চাকরীতে জয়েন করার পর থেকে প্রতিবছর প্রচুর বই কেনার সুযোগ হয়। শৈশবে ব্যাপারটা এমন ছিলোনা। অল্প কিছু বই হাতে থাকতো। সেগুলো বারবার করে পড়তাম। আমার আব্বুও প্রচুর বই পড়তেন। আমাকেও পড়ে শোনাতেন। অনেক বড়দের উপন্যাসও আব্বু পড়ার পর আমাকে ছোট্ট করে সামারি শুনিয়ে দিতেন আমার মতো করে।

বইপত্রের অনেক দাম, আর বই পড়ুয়াদের পড়ার গতি লাগামছাড়া। তাই বই কিনে কখনও কুলিয়ে ওঠা যেতোনা। সেই সমস্যার খুব অভিনব এক সমাধান ছিলো ঈদসংখ্যা। একটি ঈদসংখ্যায় থাকতো অনেক অনেক উপন্যাস। সাথে প্রচুর গল্প-কবিতা। অনেকক্ষেত্রে কমিক্স, আর হরেকরকমের প্রবন্ধ। সব ধরণের পাঠকের জন্যেই থাকে কিছু না কিছু। আর দাম সেই তুলনায় নাগালের মধ্যে। ফলে পাঁচ-দশটি বইয়ের কাজ একবারে চালিয়ে দিতে পারতো এক একটি ঈদসংখ্যা।

প্রবন্ধ আমার এখন খুব প্রিয়। প্রচুর নন-ফিকশন পড়া হয়। কিন্তু ছোটবেলায় তো আর এসব বই কেনা হতো না। কিন্তু পড়া হতো ঈদসংখ্যাতে। আর তার মাধ্যমেই জানতে পেরেছি কত কত নতুন জিনিস। এখনও জানি। ঈদসংখ্যায় আরেকটি ব্যাপার খুব সুন্দর করে হয়। আগে পড়া হয়নি, অথবা নতুন লেখকদের লেখা সহজে পড়ে ফেলা যায়। এমন অনেকবার হয়েছে যে কোন লেখককে হয়তো ঈদসংখ্যায় প্রথম আবিষ্কার করে ভালো লাগলো। পরে তাঁর বই অনেক পড়লাম। মনে আছে স্কুলে থাকতে শাহাদুজ্জামানের লেখা প্রথম আমি ঈদসংখ্যাতেই পড়েছিলাম।

এখন আর সব বছর ঈদসংখ্যা বেশি করে কেনা না হলেও নিয়মিতই অন্তত ঘাটাঘাটি করা হয়। প্রতিবারই প্রচুর ম্যাসেজ পাই বুকস উইথ নাহিয়ানের পেইজে, “কোন ঈদসংখ্যাটি পড়বো?”—এই মর্মে। অনেকেই লিখেন, “ঈদসংখ্যা ছাড়া ঈদের আমেজ ঠিক জমে না”। গতবছর অনেকগুলো ঈদসংখ্যা নিয়ে বিস্তারিত একটা ভিডিও করেছিলাম। এই বছর করা হয়নি। কিন্তু আগের ভিডিওটির কথা এ বছরেও মনে করে দিয়েছেন অনেকে।

এই যে ঈদসংখ্যাকে ঘিরে আমাদের এতো আবেগ, এতো উচ্ছ্বাস, সত্যিই অনেক আনন্দিত করে তোলে আমাকে। সামনের বছরগুলোতেও আশা করি ঈদসংখ্যা আরও জৌলুস নিয়ে ফিরে ফিরে আসবে, ঈদসংখ্যা পৌঁছে যাবে সবার কাছে, ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়বে ঘরে ঘরে।

লেখক : ইনফ্লুয়েন্সার, বুকস উইথ নাহিয়ান


অক্ষরের Instagram পেইজ ফলো করুন এখানে