১
সকালটা ধীরে ধীরে
খুলে ফেলে চোখ
রাতের সব অন্ধকার
রেখে যায় শোক।
ভোরের নরম আলো
নামাজের ডাক
ঘুমভাঙা পৃথিবী
খোঁজে রবের হাক।
২
তুমি কি জেগে উঠে
চুল বেঁধেছো আজ
নাকি আয়নার ভেতর
হারিয়েছো লাজ?
চোখের নিচে জমা
নিদ্রাহীন ছায়া
কোন স্বপ্ন ভেঙে গেছে
বলোনি যে মায়া।
৩
পর্দাটা সরিয়ো
আলতো করে আজ
রোদ এসে পড়ুক
সিজদার সাজ।
জানালার কাঁচে
লেগে থাকা নূর
আলোয় মিশে যাক
অন্তরের সুর।
৪
মেঝেতে পড়ে থাকা
ছায়াগুলো আজ
কুড়িয়ে নিও না আর
অতীতের লাজ।
যা ছিল দুঃখ
রেখে দাও পিছে
রহমতের দরজা
খুলে আছে নিচে।
৫
চোখ মেলে প্রথমে
কাকে খোঁজো বলো
নিজেকে আয়নায়
নাকি আসমানতলো?
যে দৃষ্টি খোঁজে
অদেখা এক নাম
সে কি শুধু প্রেম
নাকি ইলহাম?
৬
পানির কল খুলে
ওযু করো ধীরে
জলের প্রতি ফোঁটা
নেমে আসে নীড়ে।
হাত থেকে মুখে
শীতল যে স্পর্শ
গুনাহ ধুয়ে যায়
নীরবে অহর্ষ।
৭
ওযুর ফোঁটা ফোঁটা
গড়িয়ে পড়ে প্রাণে
প্রতিটি বিন্দু যেন
মাফ চায় টানে।
অন্তরের ধুলো কি
মুছে যায় তাতে
নাকি রব নিজেই
ছুঁয়ে দেন হাতে?
৮
সিজদার চাদরটা
বিছিয়ে দাও চুপ
মাথা নত হলে
ভেঙে যায় রূপ।
যে প্রেম ছিল আগে
মানুষের মাঝে
আজ তা মিশে যায়
রবেরই সাজে।
৯
দোয়ার ভাষা যদি
খুঁজে না পাও ঠিক
চোখের জলে লিখো
অপূর্ণতার দিক।
নিঃশব্দ কান্নাও
পৌঁছে যায় ওপার
শব্দহীন দোয়া
সবচেয়ে যে ভার।
১০
আজকের দিনটা
কেমন যাবে বলো
রিজিকের খোঁজে কি
ছুটবে অবিরলো?
নাকি মাঝপথে
থেমে গিয়ে একবার
মনে করবে তাঁকে
যিনি দেন বারবার?
১১
বই খুলে বসে থেকো
দুই পাতার ভিড়ে
জ্ঞান যেন মিশে যায়
ঈমানের নীড়ে।
অক্ষরগুলো হোক
স্মরণের দাগ
প্রতিটি লাইনে থাক
রবেরই ভাগ।
১২
কলমের নিবে জমা
অকথিত নাম
কালির ভেতর জেগে
অদৃশ্য সালাম।
লিখতে চায় হৃদয়
যে নামের ডাকে
নীরবে সাড়া দেয়
রাতের ফাঁকে।
১৩
তোমার অক্ষর কি
এখনো তেমন?
নাকি বদলে গেছে
সময়ের মতন?
যে হাত একদিন
লিখতো ভালোবাসা,
আজ কি সেই হাতে
লিখে শুধু ভরসা?
১৪
দুপুরে খেতে বসে
ভাত নেবে কত
নিয়ামতের মাঝেও
থাকে কি শর্ত?
এক কণা ভাতেও
রয়েছে রহমত
তবু আমরা ভুলে
হই অকৃতজ্ঞ কত।
১৫
প্লেটের ধারে জমা
ডাল আর তরকারি,
অপচয়ের ভেতরে
গুনাহ যে ভারী।
যতটুকু প্রয়োজন
তারও কম খাওয়া
মনে জমে থাকে
অন্য এক চাওয়া।
১৬
একটু যদি সময় পাও
ছাদে উঠে যাও
আকাশকে দেখে
স্মরণ করে নাও।
মেঘেরা ভাসে যেন
কদরের রাত
তাদের চলার পথে
লুকানো বরাত।
১৭
বিকেলের বাতাসে
ছড়িয়ে দিও চুল
দুনিয়ার ক্লান্তিতে
ঢেকে যাক ভুল।
রেলিং ধরে চেয়ে
দূরের পথ
হয়তো কেউ আসে
নিয়ে রহমত।
১৮
গাছের পাতায় আজ
কেমন সুর বাজে
হাওয়া কি আসে
কোনো দোয়ার মাঝে?
শুনতে পেলে বুঝো
এ নিছক নয়
রবেরই ইশারা
নীরবতায় কয়।
১৯
হয়তো আমি কোথাও
মিশে আছি ধুলায়
দোয়ার ভেতর রেখে
অদেখা ভুলায়।
তুমি চিনবে না তবু
রেখেছি যে ছাপ
রব জানেন সবই
লুকোনো প্রতাপ।
২০
সন্ধ্যা নামলে পরে
আলো জ্বালিও ধীরে
মাগরিবের আযান
ডাকে গভীরে।
দিনের সব ক্লান্তি
রেখে দাও তাতে
নামাজের প্রশান্তি
নেমে আসুক রাতে।
২১
চায়ের কাপে ধোঁয়া
উঠে যায় ভেসে
তুমি কি তাকিয়ে
হারাবে শেষে?
নাকি এক চুমুকে
স্মরণ করবে তাঁকে
যিনি দিয়েছেন
প্রতিটি স্বাদকে।
২২
রাত হলে জানালায়
চাঁদ নামে নীরব
তাহাজ্জুদের ডাকে
জাগে অন্তর সব।
বালিশের কোণে
রাখো না শুধু মাথা
দোয়ার ভেতর রাখো
সব না বলা ব্যথা।
২৩
আমি তখন দূরে
লিখি মোনাজাত
শব্দগুলো কাঁদে
নীরব রাত।
তুমি না থাকলেও
থাকি দোয়ার স্রোতে
তোমার নাম রাখি
রবেরই নোটে।
২৪
হঠাৎ কোনো রাতে
জেগে উঠলে যদি
মনে হবে কেউ যেন
ডাকে নিরবধি।
চোখ মেলে দেখবে
শূন্যতার ঘর
তবু ভেতরে জাগে
রহমতের দর।
২৫
ঘুম আসে না আর
চোখের কোণে
দোয়ার আকুতি
রয়ে যায় মনে।
বালিশে মুখ গুঁজে
নিঃশব্দ মিনতি
কেউ না শুনলেও
শোনেন অনন্তি।
২৬
রাতের নীরবতা
মোহিত করে অন্তর
চুপচাপ বুকে
দোয়া হয় ঢেউস্বর।
তুমি না দেখলেও
রব দেখেন সব
অন্তরের ইচ্ছে
জাগে আশা নব।
২৭
একদিন হয়তো
সব হিসেব মুছে
আমরা দাঁড়াবো
হাশরে পিছেপিছে।
চোখে চোখ পড়লে
চিনবে কি আবার
নাকি দোয়ার মাঝে
হবে পরিচয় তার?
২৮
যদি তখন হাওয়া
পুরনো গন্ধ আনে
তুমি কি চিনবে তাকে
আমারই টানে?
নাকি ভেবে নেবে
এ কেবল ভুল
সময় খেলেছে
মনের সাথে কূল।
২৯
তবুও কোথাও যেন
থেকে যাবে সুর
দোয়ার ভেতর লেখা
অদৃশ্য নূর।
তোমার আমার মাঝে
যে বন্ধন রয়
তা শুধু প্রেম নয়
রহম স্রোত বয়।
৩০
এভাবে লিখে যাই
দিনের পর দিন
তোমার জন্য দোয়া
হয়ে যায় ঋণ।
অদেখা এই কাব্য
শেষ হবে কবে
জানি না, তবু লিখি
তোমারই রবে।