ঈদের সাথী ঈদসংখ্যা!
ঈদের একটা আলাদা সুঘ্রাণ আছে! নতুন বইয়ের যেই ঘ্রাণ পান পাঠক ওরকমই। আমার জন্যে চিরকালই ঈদ মানে সকাল সকাল গোসল সেরে রেডি হয়ে সবাইকে সালাম করা, সালামি নেওয়া, আম্মার হাতের সেমাই-নুডলস খাওয়া। আর বাসায় আসা মেহমানদের মন ভরে যত্ন আত্মি করা।
আর পাঠক হিসেবে তুমুল উত্তেজনা নিয়ে অপেক্ষা করি ‘ঈদ সংখ্যা’। নতুন জামা, মজার সব খাবার আর চকচকে সালামির নোটের পাশাপাশি ঈদুল ফিতরের অন্যতম আকর্ষণ থাকে ঈদ সংখ্যা! কোন পত্রিকার ঈদসংখ্যা কবে আসবে, কার কার লেখা থাকবে,কখন হাতে পাবো সবটাই এক মজার খেলার মতো লাগে!
বড় হওয়ার পর প্রত্যেকবার ঈদের কেনাকাটায় নতুন জামা-জুতার পাশাপাশি ঈদের বই এর এক আলাদা লিস্ট তো থাকেই! এবারেও সেই কেনাকাটা করেছি, বইমেলা হেকেই! সেখানেই সদর্পে ঠাঁই হয় এই ঈদসংখ্যাগুলোর।
বেশিরভাগ ঈদে অন্তত একখানা তো ছিলো। যেমন গত ঈদে তো একটা কান্ড ই হয়ে গেলো! আমি প্রথম আলোর ঈদ সংখ্যা-২০২৫ অনলাইনে অর্ডার করে বসে আছি পটুয়াখালীর ঠিকানায় একদিকে আর অন্যদিকে আমারি এক বন্ধু ঈদের উপহার হিসেবে এই একই ঈদ সংখ্যা ঢাকার ঠিকানায় পাঠিয়ে রেখেছিলো, যা ঈদের পর ফিরে গিয়ে পেয়েছিলাম। গতবার তাই আমার দুইখানা ঈদ সংখ্যা ছিলো!
বই আর প্রিয়জনেরা সবসময়ই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ এই ঈদের সময়। ড্যাড ছাড়া এইবারে হবে ৩য় ঈদ। তাই, এইবারেও ড্যাডের সাথে বই নিয়ে আলাপ হবে না, পড়ার বই বাদে অন্য বইয়ে বেশি মনোযোগ দেওয়ায় হালকা বকুনি খাবো না। কিন্তু ড্যাডের এই শূণ্যতা ঈদের আনন্দে খানিকটা ভাটা তো আনবেই। তাও বই পড়তে পড়তে মনে করবো, আমাদের একসাথে বসে বই পড়ার সময় গুলো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ড্যাডকে তার কাছে ভালো রেখেছেন।
এইবারের কাল বৈশাখিকে সাথী হিসেবে নিয়ে আসা ঈদের দিন দুপুরেও অবসরে, ওল্টাবো বইয়ের পাতা। সময় কাটবে ঈদের দিনে, ঈদের সংখ্যায়!